ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করার নিয়ম ২০২৬ | NID Address Change Online

বাসা বা বসবাসের স্থান পরিবর্তনের কারণে, বিয়ের পর বা অন্য কোনো প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID Card) বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। আগে এর জন্য নির্বাচন অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল পোর্টের মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে এনআইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করা যায়।
আজকের এই গাইডলাইনে আমরা Helpline BD 24-এর পক্ষ থেকে অনলাইনে এনআইডি কার্ডের ঠিকানা সংশোধন বা পরিবর্তনের সম্পূর্ণ নিয়ম ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তালিকা তুলে ধরব।
📄 ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
ঠিকানা পরিবর্তনের ধরণ (বর্তমান নাকি স্থায়ী) অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করতে হয়:
১. ইউটিলিটি বিলের কপি: বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বা পানির বিলের কপি (যে ঠিকানায় যেতে চান)।
২. পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদের সনদ: সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান, মেয়র বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব বা চারিত্রিক সনদপত্র।
৩. বাড়ি ভাড়ার রসিদ বা চুক্তিপত্র: (যদি ভাড়া বাসায় থাকেন)।
৪. জমির দলিল বা খতিয়ান: (নিজস্ব বাড়ি বা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে)।
৫. ট্যাক্স বা হোল্ডিং ট্যাক্স রসিদ: হালনাগাদ বাড়ি বা জমির কর পরিশোধের রসিদ।
৬. কাবিননামা: (বিয়ের পর স্বামীর ঠিকানা যুক্ত করার ক্ষেত্রে কাবিননামা ও স্বামীর এনআইডি কার্ডের কপি)।
💳 সরকারি ফি (Fees):
অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনের জন্য ২৩০ টাকা (ভ্যাটসহ) সরকারি ফি প্রদান করতে হয়।
এই ফি বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে সরাসরি অ্যাপ থেকে পরিশোধ করা যায়।
💻 অনলাইনে NID ঠিকানা পরিবর্তন করার স্টেপ-বাই-স্টেপ নিয়ম:
১. যেকোনো ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি পোর্টেলে (services.nidw.gov.bd) ঢুকুন।
২. আপনার NID নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে একাউন্টে লগইন করুন (একাউন্ট না থাকলে রেজিস্ট্রেশন করে নিন)।
৩. ড্যাশবোর্ডে গিয়ে "প্রোফাইল" মেনুতে ক্লিক করুন এবং ডানপাশের "সংশোধন" বাটনে ট্যাপ করুন।
৪. রিচার্জ/ফি পরিশোধের অপশন আসলে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে ২৩০ টাকা আবেদন ফি প্রদান করুন।
৫. ফি পরিশোধ হলে "ঠিকানা" সেকশনে যান। সেখানে আপনার বর্তমান ঠিকানা নাকি স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে চান তা নির্বাচন করুন।
৬. নতুন ঠিকানার জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন/ওয়ার্ড, গ্রাম ও বাসা নম্বর সঠিকভাবে টাইপ করুন।
৭. পরের ধাপে আপনার সংগৃহীত প্রমাণাদি (যেমন: চেয়ারম্যান সনদ, বিদ্যুৎ বিলের কপি ইত্যাদি) পরিষ্কারভাবে Upload করুন।
৮. সমস্ত তথ্য পুনরায় ভালো করে চেক করে Submit বাটনে ক্লিক করুন।
৯. আবেদন জমা হওয়ার পর আবেদনের কপি (Application Form) ডাউনলোড করে পিডিএফ সংগ্রহে রাখুন।
⌛ আবেদন মঞ্জুর হতে কতদিন সময় লাগে?
অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর সাধারণত ১০ থেকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনটি অনুমোদন (Approved) করা হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে মোবাইলে এসএমএস (SMS) চলে আসবে। এরপর সাইট থেকে রি-প্রিন্ট করে নতুন ঠিকানাসহ ডিজিটাল এনআইডি ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও নানা সরকারি অনলাইন সেবার বিশ্বস্ত তথ্যের জন্য সবসময় HelplineBD24-এর সাথে থাকুন!