জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম ২০২৬ | NID Address Change BD

 জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম ২০২৬ | NID Address Change BD


চাকরি, ব্যবসা, নতুন বাসা ক্রয় কিংবা বিয়ের পর এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থায়ীভাবে বা সাময়িকভাবে বসবাসের কারণে আমাদের এনআইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা পরিবর্তন করার প্রয়োজন পড়ে। এনআইডিতে সঠিক ঠিকানা না থাকলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা (যেমন: পাসপোর্ট আবেদন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, জমি রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি) গ্রহণে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (Bangladesh Election Commission)-এর অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসেই খুব সহজে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করা যায়। আজ আমরা জানবো ২০২৬ সালে অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ঠিকানা পরিবর্তন বা স্থানান্তরের সঠিক নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে।

📋 এনআইডি ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদন করার আগে আপনার বর্তমান ঠিকানা বা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের সাপেক্ষে নিচের নথিগুলো সংগ্রহ করে স্পষ্ট স্ক্যান কপি (JPG/PDF) রেডি রাখুন:

  • নাগরিকত্ব সনদপত্র: নতুন ঠিকানার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভা মেয়র কিংবা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রদত্ত সনদ।

  • ইউটিলিটি বিলের কপি: নতুন ঠিকানার সাম্প্রতিক সময়ে পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিল, পানি বিল বা গ্যাস বিলের কপি।

  • বাড়ির কর/হোল্ডিং ট্যাক্স রসিদ: নিজস্ব বাসা হলে হোল্ডিং ট্যাক্স বা চৌকিদারি করের সাম্প্রতিক পরিশোধিত রসিদ।

  • বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্র (ভাড়াটিয়া হলে): নতুন ঠিকানায় ভাড়া থাকেন তার প্রমাণ হিসেবে বাড়িভাড়ার চুক্তিনামা (Rent Agreement)।

  • জমির দলিল/খতিয়ান: স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন ঠিকানার ক্রয়কৃত জমির দলিল, নামজারি (Mutated Khatian) বা খাজনা আদায়ের রসিদ।

  • বিবাহিতদের ক্ষেত্রে: বৈবাহিক সূত্রে স্বামীর/স্ত্রীর ঠিকানায় স্থানান্তরিত হতে চাইলে কাবিননামা (Nikahnama) ও স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের কপি।

🛠️ অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম (Step-by-Step)

১ম ধাপ: এনআইডি পোর্টালে লগইন

১. নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল সার্ভিস পোর্টাল services.nidw.gov.bd-এ প্রবেশ করুন। ২. আপনার এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টে লগইন করুন (অ্যাকাউন্ট না থাকলে এনআইডি নম্বর ও ফেস ভেরিফিকেশন করে রেজিস্টার করে নিন)।

২য় ধাপ: ঠিকানা এডিট ও তথ্য পূরণ

১. ড্যাশবোর্ড থেকে প্রোফাইল (Profile) অপশনে গিয়ে ডানপাশের এডিট (Edit) বাটনে ক্লিক করুন। ২. ঠিকানা ট্যাবে যান এবং আপনি বর্তমান ঠিকানা (Present Address) নাকি স্থায়ী ঠিকানা (Permanent Address) পরিবর্তন করতে চান তা নির্বাচন করুন। ৩. জেলা, উপজেলা/থানা, ইউনিয়ন/ওয়ার্ড, গ্রাম/রাস্তা ও বাসা/হোল্ডিং নম্বর সঠিকভাবে নতুন ঠিকানা অনুযায়ী টাইপ করুন।

৩য় ধাপ: ফি পরিশোধ (NID Address Change Fee)

১. ঠিকানা পরিবর্তনের সরকারি ফি মোট ২৩০ টাকা (ফি ২০০ টাকা + ১৫% ভ্যাট ৩০ টাকা)। ২. বিকাশ, রকেট, নগদ বা ডাচ-বাংলা মোবাইলের মাধ্যমে এনআইডি ফি অপশন থেকে NID Info Correction সিলেক্ট করে ২৩০ টাকা পেমেন্ট করুন। ৩. পেমেন্ট সফল হলে পোর্টালে স্ট্যাটাস Paid দেখাবে।

৪র্থ ধাপ: ডকুমেন্টস আপলোড ও আবেদন সাবমিট

১. ঠিকানা প্রমাণের সংগৃহীত নথিগুলোর (নাগরিকত্ব সনদ, বিদ্যুৎ বিলের কপি, কাস্টডি/দলিল ইত্যাদি) ফাইল আপলোড করুন। ২. সকল তথ্য পুনর্বার যাচাই করে আবেদনটি Submit করুন এবং চূড়ান্ত আবেদন ফরমের PDF ফাইলটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নিন।

🏢 ভোটার এলাকা স্থানান্তর ও চূড়ান্ত অনুমোদন (Voter Area Transfer)

  • আপনি যদি ঠিকানা পরিবর্তনের সাথে সাথে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চান, তবে অনলাইন আবেদনের ফরম (ফরম-১৩) এবং কাগজপত্রসহ আপনার নতুন ঠিকানার উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে হতে পারে।

  • নির্বাচন কর্মকর্তা নথিগুলো যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন (Approval) দিলে আপনার এনআইডি ডেটাবেজে নতুন ঠিকানা আপডেট হয়ে যাবে।

  • অনুমোদন পাওয়ার পর অনলাইন পোর্টাল থেকে নতুন সংশোধিত ই-এনআইডি (e-NID Card) ডাউনলোড করে সাথে সাথে ব্যবহার করতে পারবেন।

🔗 সম্পর্কিত অন্যান্য প্রয়োজনীয় গাইড:

❓ সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন: ঠিকানা পরিবর্তন হতে কত দিন সময় লাগে?

উত্তর: কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দিলে সাধারণত ১০ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে আবেদন অনুমোদিত হয়।

প্রশ্ন: শুধু বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করলে কি ভোটার এলাকা বদলে যায়?

উত্তর: না, শুধু বর্তমান ঠিকানা আপডেট করলে ভোটার এলাকা পরিবর্তন হয় না। ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চাইলে আলাদাভাবে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন সিলেক্ট করতে হয়।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url