অনলাইনে ই-নামজারি আবেদন ও খতিয়ান চেক করার নিয়ম ২০২৬ (e-Namjari BD)
অনলাইনে ই-নামজারি আবেদন ও খতিয়ান চেক করার নিয়ম ২০২৬ (e-Namjari BD)
আপনি কি জমি, ভিটা বা ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন কিংবা পৈতৃক সূত্রে কোনো জমির মালিক হয়েছেন? জমি কেনার পর বা পাওয়ার পর তার আইনগত মালিকানা নিজের নামে নিশ্চিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক ধাপ হলো ই-নামজারি (e-Namjari / Land Mutation) সম্পন্ন করা। নামজারি বা জমাভাগ না করলে পরবর্তীতে সেই জমি হস্তান্তর, বিক্রি, বন্ধক প্রদান কিংবা সরকারি রেকর্ড খতিয়ানে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করা যায় না।
পূর্বে নামজারি বা খারিজের আবেদনের জন্য এসি ল্যান্ড (AC Land) অফিস কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীদের পেছনে মাসের পর মাস দৌড়াতে হতো। তবে বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ই-সেবা পোর্টালে (land.gov.bd) ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইনে ই-নামজারি আবেদন ও খতিয়ান যাচাই (e-Namjari Online Apply 2026) করার শতভাগ স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০২৬ সালের নতুন আপডেটেড নিয়মে ই-নামজারি আবেদনের যোগ্যতা, সরকারি ফি-এর পরিমাণ, কী কী কাগজপত্র স্ক্যান করতে হবে, ধাপে ধাপে আবেদন করার পদ্ধতি এবং আবেদনের বর্তমান অবস্থা (Tracking Status) দেখার এ-টু-জেড গাইডলাইন নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
📌 অন্যান্য দরকারি সরকারি নাগরিক সেবা ও পরিচয়পত্র গাইড:
জমিজমা ও অন্যান্য নাগরিক সেবা সংক্রান্ত নির্দেশিকা দেখতে আমাদের
ই-নামজারি ফি ও সরকারি খরচ ২০২৬
ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত ই-নামজারির সরকারি ফি একদম সুনির্দিষ্ট। অতিরিক্ত কোনো ফি বা দালালির প্রয়োজন নেই:
| ফি-এর বিবরণ | সরকারি হার (টাকা) |
| আবেদন ফি (Court Fee) | ২০ টাকা |
| নোটিশ জারি ফি (Notice Fee) | ৫০ টাকা |
| খতিয়ান প্রস্তুত/প্রদান ফি | ১০০ টাকা |
| মিউটেশন ফি (DCR Fee) | ১,০০০ টাকা |
| সর্বমোট সরকারি খরচ | ১,১৭০ টাকা |
নোট: আবেদন করার সময় প্রাথমিক ফি (৭০ টাকা) জমা দিতে হয় এবং নামজারি মঞ্জুর হওয়ার পর খতিয়ান ও ডিসিআর (DCR) ফি হিসেবে ১,০০০ টাকা অনলাইনেই বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।
নামজারি আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
অনলাইনে নামজারির ফরম পূরণের আগে নিচের ডকুমেন্টসগুলোর স্পষ্ট ছবি বা PDF স্ক্যান ফাইল রেডি রাখুন:
আবেদনকারীর NID ও ছবি: আবেদনকারী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সকল ওয়ারিশদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্পষ্ট রঙিন ছবি।
মূল দলিল / বায়া দলিল: ক্রয়কৃত জমির মূল রেজিস্ট্রি দলিলের কপি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বায়া দলিলের অনুলিপি।
সর্বশেষ খতিয়ান ও পর্চা: বিক্রেতা বা পূর্ববর্তী মালিকের নামে থাকা সিএস, এসএ, আরএস, বিএস বা সিটি জরিপ খতিয়ানের কপি।
দাখিলা / খাজনা রশিদ: জমিটির সর্বশেষ অর্থ বছরের হাল সন পর্যন্ত পরিশোধকৃত ভূমির উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিষদের ডিজিটাল রশিদ।
ওয়ারিশ সনদ (পৈতৃক জমি হলে): ওয়ারিশান সূত্রে প্রাপ্ত জমি হলে স্থানীয় চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদানকৃত ওয়ারিশ সনদপত্র।
আদালতের রায়/ডিক্রি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে): জমিটি যদি কোনো আইনি মামলার ডিক্রি সূত্রে প্রাপ্ত হয়, তবে আদালতের আদেশের সার্টিফাইড কপি।
অনলাইনে ই-নামজারি আবেদন করার সহজ নিয়ম ২০২৬ (Step-by-Step)
ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল সেবা পোর্টালে ঢুকে যেভাবে নিখুঁতভাবে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন:
ধাপ ১: অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ
আপনার মোবাইলের Google Chrome ব্রাউজার ওপেন করুন এবং সরাসরি প্রবেশ করুন mutation.land.gov.bd ওয়েবসাইটে।
ধাপ ২: আবেদনের ধরন নির্বাচন
১. হোম পেজে থাকা "ই-নামজারি আবেদন" বাটনে ট্যাপ করুন।
২. আপনি জমিটি কীভাবে লাভ করেছেন—যেমন: ক্রয়সূত্র, ওয়ারিশ সূত্র, দানপত্র, নাকি ডিক্রি/হেবা সূত্র—তা নির্বাচন করুন।
ধাপ ৩: আবেদনকারীর পরিচয় ভেরিফিকেশন
১. আপনার NID নম্বর, জন্ম তারিখ এবং সচল মোবাইল নম্বর প্রদান করুন।
২. মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP) দিয়ে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করুন।
ধাপ ৪: জমির বিবরণ ও ঠিকানা প্রদান
১. জমির অবস্থান অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, উপজেলা/থানা, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও মৌজা নির্বাচন করুন।
২. খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং আপনার নামজারি করতে চাওয়া মূল জমির পরিমাণ (শতক বা একরে) টাইপ করুন।
৩. মূল মালিক বা বিক্রেতার তথ্য এবং গ্রহীতার তথ্য সঠিকভাবে বক্সে বসান।
ধাপ ৫: ফাইল আপলোড ও প্রাথমিক ফি প্রদান
১. পূর্বে রেডি রাখা দলিলের স্ক্যান কপি, খাজনার রসিদ ও ছবি নির্দিষ্ট সাইজ (PDF/JPEG) অনুযায়ী আপলোড করুন।
২. প্রাথমিক আবেদন ও নোটিশ ফি (৭০ টাকা) অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে (bKash/Nagad/Rocket) দিয়ে জমা দিন।
ধাপ ৬: আবেদন ফরম সংরক্ষণ
আবেদন সফলভাবে সাবমিট হলে স্ক্রিনে একটি আবেদন ট্র্যাকিং নম্বর (Application ID) দেখাবে। প্রাপ্ত ই-নামজারি আবেদনের মূল কপিটি PDF আকারে সেভ বা প্রিন্ট করে রাখুন।
ই-নামজারি আবেদনের স্ট্যাটাস ও খতিয়ান চেক করার নিয়ম
আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনার নামজারির ফাইলটি এসি ল্যান্ড অফিসে কোন পর্যায়ে রয়েছে তা ট্র্যাক করতে:
mutation.land.gov.bd পোর্টালে গিয়ে "আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা" মেনুতে ক্লিক করুন।
আপনার বিভাগ, আবেদন ট্র্যাকিং নম্বর এবং NID নম্বর টাইপ করে সার্চ করুন।
আপনার আবেদনের শুনানির তারিখ কিংবা মঞ্জুরের আদেশ দেখতে পাবেন।
শুনানি শেষে আবেদন অনুমোদিত হলে বাকি ১,০০০ টাকা অনলাইন ডিসিআর (DCR) ফি জমা দিয়ে সরাসরি মোবাইল থেকেই ডিজিটাল ই-খতিয়ান (Khotiyan PDF) ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
📌 অনলাইন পেমেন্ট ওয়ালেট সংক্রান্ত নির্দেশিকা:
অনলাইনে নামজারি ফি পরিশোধে সহায়তার জন্য আমাদের
সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: ই-নামজারি হতে কত দিন সময় লাগে?
উত্তর: সাধারণ জমি ক্রয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে গড়ে ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে ই-নামজারি নিস্পত্তি হয়ে থাকে।
প্রশ্ন: নামজারির আবেদন বাতিল হলে করণীয় কী?
উত্তর: তথ্যে ভুল বা কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে আবেদন না-মঞ্জুর হতে পারে। বাতিলের সঠিক কারণ ড্যাশবোর্ডে দেখে নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশোধনপূর্বক পুনরায় নতুন আবেদন করা যায়।
উপসংহার
জমিজমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও আইনি ঝামেলা এড়াতে জমি কেনার সাথে সাথেই নামজারি সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। e-Namjari Online Apply 2026 নিয়মে দালাল ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে নিজের নামে ডিজিটাল খতিয়ান তৈরি করে নেওয়া সম্ভব।
জমিজমা সংক্রান্ত তথ্য, এনআইডি, পাসপোর্ট, সরকারি ভাতা ও অন্যান্য নাগরিক সেবার সর্বশেষ সঠিক গাইডলাইন পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন HelpLineBD24। পোস্টটি দরকারী মনে হলে ফেসবুকে শেয়ার করে দিন!
