Driving License Renewal Online BD 2026 | ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ করার সহজ নিয়ম
বাংলাদেশে যানবাহন চালনার জন্য একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। তবে নির্দিষ্ট সময় পরপর এই লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পূর্বে ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ বা নবায়ন করার জন্য বিআরটিএ (BRTA) অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো।
বর্তমানে বিআরটিএ-এর ডিজিটাল পোর্টাল BSP (BRTA Service Portal)-এর মাধ্যমে খুব সহজেই ঘরে বসে অনলাইনেই ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ করার আবেদন করা যায়। আজ আমরা জানবো ২০২৬ সালে ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ করার পুরো প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সরকারি ফি কত?
📋 ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদন করার আগে নিচের ফাইলগুলোর স্ক্যান কপি (PDF/JPG) রেডি রাখুন:
আগের ড্রাইভিং লাইসেন্স: মূল ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্পষ্ট স্ক্যান কপি।
মেডিকেল সার্টিফিকেট (Medical Certificate): রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক প্রদত্ত নির্ধারিত ফরমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সনদ।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): মূল এনআইডি বা ই-এনআইডি কার্ডের কপি।
ছবি: আবেদনকারীর ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি।
পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে (Professional): ডোপ টেস্ট (Dope Test) রিপোর্ট বা সার্টিফিকেট।
💰 বিআরটিএ লাইসেন্স রিনিউ করার সরকারি ফি
| লাইসেন্সের ধরন | মেয়াদের পরিধি | মোট ফি (১৫% ভ্যাটসহ) |
| অপেশাদার (Non-Professional) | ১০ বছর | ৪,৬৫৮ টাকা |
| পেশাদার (Professional) | ৫ বছর | ২,৭৬২ টাকা |
💡 নোট: লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর আবেদন করলে প্রতি বছরের জন্য নির্ধারিত জরিমানা যুক্ত হবে।
🛠️ অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স রিনিউ করার নিয়ম (Step-by-Step Guide)
১ম ধাপ: BSP পোর্টালে একাউন্ট ও লগইন
১. প্রথমে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে bsp.brta.gov.bd প্রবেশ করুন।
২. আপনার মোবাইল নম্বর ও এনআইডি দিয়ে একাউন্ট রেজিস্টার করে নিন (আগে থেকে একাউন্ট থাকলে সরাসরি লগইন করুন)।
২য় ধাপ: রিনিউ আবেদন ফরম পূরণ
১. ড্যাশবোর্ড থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স অপশনে যান এবং লাইসেন্স নবায়নের আবেদন নির্বাচন করুন।
২. আপনার আগের লাইসেন্স নম্বর ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন।
৩. সংগৃহীত মেডিকেল সার্টিফিকেট, ডোপ টেস্ট রিপোর্ট (যদি লাগে) এবং এনআইডি কার্ডের ফাইল আপলোড করুন।
৩য় ধাপ: ফি পরিশোধ
১. আবেদন ফরম সঠিকভাবে পূরণ শেষে পেমেন্ট অপশনে যান।
২. বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা ব্যাংকিং কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত সরকারি ফি অনলাইনে জমা দিন।
৪র্থ ধাপ: বায়োমেট্রিক ও ই-লাইসেন্স গ্রহণ
১. পেমেন্ট সফল হলে বিআরটিএ থেকে বায়োমেট্রিক ও পেপার পরীক্ষার তারিখসহ রসিদ (Acknowledgement Slip) ডাউনলোড করতে পারবেন।
২. অনুমোদন বা Approval পেয়ে গেলে পোর্টাল থেকেই সরাসরি আপনার স্মার্ট ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স (e-Driving License PDF) ডাউনলোড করে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন।
🔗 সম্পর্কিত অন্যান্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস:
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন: স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স পেতে কত দিন সময় লাগে?
উত্তর: অনলাইন থেকে ই-লাইসেন্স পাওয়ার পর মূল প্লাস্টিক/স্মার্ট কার্ডটি ডাকযোগে বা বিআরটিএ অফিস থেকে পেতে ১৫-৩০ দিন সময় লাগতে পারে।
প্রশ্ন: অপেশাদার লাইসেন্স রিনিউ করতে ডোপ টেস্ট লাগে?
উত্তর: না, অপেশাদার (Non-Professional) লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের প্রয়োজন হয় না। এটি কেবল পেশাদার লাইসেন্সের জন্য প্রযোজ্য।
