বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২৬ (অ্যাপ ও বাটন ফোনে একাউন্ট খোলার পদ্ধতি)
বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২৬ (অ্যাপ ও বাটন ফোনে একাউন্ট খোলার পদ্ধতি)
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা হলো বিকাশ (bKash)। টাকা পাঠানো, মোবাইল রিচার্জ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ বা রেমিট্যান্স গ্রহণ—সব কাজেই বিকাশ আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী। আপনি কি ২০২৬ সালের নতুন নিয়মে ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলতে চান?
আগে বিকাশ একাউন্ট খুলতে এজেন্টের কাছে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হতো। কিন্তু এখন আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন বা বাটন ফোন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে মাত্র ৫ মিনিটে নিজেই একটি ফুল ভেরিফাইড বিকাশ একাউন্ট খুলে ফেলতে পারবেন। এই পোস্টে আমরা অত্যন্ত সহজ ভাষায় বিকাশ একাউন্ট খোলার পদ্ধতি তুলে ধরব।
📌 অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং ও সরকারি সেবার গাইড:
অন্যান্য একাউন্ট লেনদেন ও সরকারি কাগজপত্রের তথ্য জানতে আমাদের
বিকাশ একাউন্ট খুলতে যেসব তথ্য ও জিনিস প্রয়োজন
অনলাইনে বিকাশ একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নিচের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সাথে রাখুন:
সচল মোবাইল নম্বর: একটি সচল ফোন নম্বর (যাতে আগে কখনো বিকাশ একাউন্ট খোলা হয়নি)।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারীর আসল (Original) এনআইডি কার্ড অথবা স্মার্ট কার্ড।
স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট: ফ্রন্ট ক্যামেরা যুক্ত একটি স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ (অ্যাপ দিয়ে খুললে)।
ফেস ভেরিফিকেশনের স্থান: পর্যাপ্ত আলো রয়েছে এমন একটি জায়গা যেখানে নিজের ছবি স্পষ্ট তোলা যাবে।
১. বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে একাউন্ট খোলার নিয়ম (স্মার্টফোন)
বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রযুক্তিতে খুব সহজেই অ্যাকাউন্ট চালু করা যায়। নিচে ধারাবাহিক ধাপসমূহ দেওয়া হলো:
ধাপ ১: অ্যাপ ডাউনলোড ও মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন
১. আপনার ফোনের গুগল প্লে-স্টোর (Google Play Store) বা অ্যাপ স্টোর থেকে bKash App ডাউনলোড করুন।
২. অ্যাপ ওপেন করে "লগইন / রেজিস্ট্রেশন" অপশনে ট্যাপ করুন।
৩. আপনার মোবাইল নম্বরটি লিখুন এবং সিমের অপারেটর (Grameenphone, Banglalink, Robi, Airtel, Teletalk) সিলেক্ট করুন।
৪. আপনার নম্বরে ৬ ডিজিটের একটি এককালীন পিন বা OTP (Verification Code) আসবে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে বা ম্যানুয়ালি বসিয়ে নিশ্চিত করুন।
ধাপ ২: জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ছবি স্ক্যান
১. বিকাশের শর্তাবলীতে সম্মতি প্রদান করে "NID-এর ছবি তুলুন" সেকশনে যান।
২. আপনার মূল NID কার্ডের সামনের অংশের (Front Side) ছবি তুলুন এবং ফ্রেম অনুযায়ী ক্রপ করে নিশ্চিত করুন।
৩. একইভাবে NID কার্ডের পেছনের অংশের (Back Side) স্পষ্ট ছবি তুলুন।
৪. ছবি আপলোড হওয়ার পর স্ক্রিনে আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম তারিখ এবং NID নম্বর দেখা যাবে। সব ঠিক থাকলে "পরবর্তী" বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান ও ফেস ভেরিফিকেশন
১. আপনার লিঙ্গ (Gender), আয়ের উৎস, পেশা এবং আনুমানিক মাসিক লেনদেনের পরিমাণ সিলেক্ট করুন।
২. এরপর "নিজের ছবি তুলুন" বিকল্পটি আসবে। ফোনের সামনের ক্যামেরা আপনার মুখের সামনে ধরুন।
৩. পর্যাপ্ত আলোতে সোজা হয়ে তাকান এবং ভেরিফিকেশনের জন্য কয়েকবার চোখের পাতা পিটপিট (Blink) করুন। ভেরিফিকেশন সফল হলে স্ক্রিনে কনফার্মেশন মেসেজ দেখতে পাবেন।
ধাপ ৪: নতুন পিন (PIN) সেটআপ
১. তথ্য যাচাই সফল হলে বিকাশের পক্ষ থেকে একটি কনফার্মেশন SMS পাঠানো হবে।
২. এবার অ্যাপ ওপেন করে আপনার একাউন্টের জন্য ৫ ডিজিটের একটি গোপন পিন (PIN) সেট আপ করুন।
(সতর্কতা: ১-২-৩-৪-৫ বা পরপর একই সংখ্যা যেমন ১১১১১ পিন হিসেবে দেওয়া যাবে না। পিন নম্বরটি সম্পূর্ণ গোপন রাখুন।)
২. বাটন ফোনে বা এজেন্ট পয়েন্ট থেকে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম
যদি আপনার কাছে স্মার্টফোন না থাকে, তবুও আপনি সাধারণ বাটন ফোন দিয়ে বিকাশ ব্যবহার করতে পারবেন।
এজেন্ট পয়েন্টে গমন: আপনার মূল NID কার্ড ও বাটন ফোনটি নিয়ে নিকটস্থ বিকাশ এজেন্ট বা কাস্টমার কেয়ারে যান।
বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন: এজেন্ট তার ডিজিটাল ডিভাইসে আপনার NID নম্বর এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ) স্ক্যান করে মুহূর্তেই একাউন্ট খুলে দেবে।
USSD পিন সেটআপ: একাউন্ট তৈরি হলে ফোনে মেসেজ আসবে। এরপর মোবাইল থেকে
*247#ডায়াল করে পিন ক্রিয়েট (Create PIN) অপশনে গিয়ে ৫ ডিজিটের নতুন পিন সেট করে নিলেই একাউন্ট সক্রিয় হয়ে যাবে।
📌 এডুকেশন ও মার্কশিট সংক্রান্ত টিউটোরিয়াল:
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার নম্বরপত্র ডাউনলোডের সঠিক নিয়ম জানতে ভিজিট করুন আমাদের
৩. ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিকাশ একাউন্ট (Student Account)
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীরাও বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারে:
এক্ষেত্রে নিবন্ধিত ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ (17 Digit Birth Certificate) প্রয়োজন হয়।
পিতা বা মাতার যেকোনো একজনের এনআইডি কার্ড ও সচল বিকাশ একাউন্টের সাথে প্যারেন্টাল কনসেন্ট (Parental Consent) লিংক করে এই একাউন্ট সচল করতে হয়।
নতুন বিকাশ একাউন্ট খোলার বোনাস ও সুবিধা (Welcome Offer)
ওয়েলকাম বোনাস: নতুন নিয়মে অ্যাপ দিয়ে একাউন্ট খুলে পিন সেটআপ ও প্রথম লগইনে আকর্ষণীয় ওয়েলকাম বোনাস পাওয়া যায়।
সহজ ক্যাশ ইন ও অ্যাড মানি: ব্যাংক একাউন্ট বা মাস্টারকার্ড/ভিসা কার্ড থেকে সরাসরি ঘরে বসেই বিকাশে টাকা আনা যায়।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: পিন এবং ওটিপি (OTP) ভিত্তিক টু-ফ্যাক্টর সিকিউরিটি থাকার কারণে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ লেনদেন মাধ্যম।
উপসংহার
সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ bKash Account চালু করা সম্ভব। আপনার এনআইডি ও প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করে আজই বিকাশ একাউন্ট খুলে নিশ্চিন্তে লেনদেন শুরু করুন।
আশা করি এই নির্দেশিকাটি আপনাদের কাজে আসবে। ডিজিটাল ব্যাংকিং সংক্রান্ত আরও বিভিন্ন আপডেট ও গাইড পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন HelpLineBD24-এ। কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে লিখে জানান!
